Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ঈদের ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটক কম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত অপরুপা বান্দরবানে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এবার প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম ঘটেনি। শনিবার (৩০ মে) জেলা সদরের নীলাচল, মেঘলা,...
Homeঈদের ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটক কম

ঈদের ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটক কম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত অপরুপা বান্দরবানে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এবার প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম ঘটেনি।

শনিবার (৩০ মে) জেলা সদরের নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও রুপালি ঝরনা ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অন্যান্য বছর এই মৌসুমে যেখানে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এসব এলাকা, সেখানে এবার তেমন ভিড় চোখে পড়েনি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের আগমনের আশায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। জেলা সদরের দু’একটি হোটেলে পর্যাপ্ত বুকিং থাকলেও অধিকাংশ হোটেল ৫০-৬০ শতাংশ বুকিং পেয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী বুকিং না হওয়ায় অনেক কক্ষ এখনো খালি রয়েছে।

হোটেল মালিকরা বলেন, গত বছরের এই দিনে ঈদের ছুটিতে কক্ষ পাওয়া ছিল দুষ্কর। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পর্যটকের সংখ্যা কম থাকায় আবাসন খাতের পাশাপাশি পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও প্রভাবিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা বিধিনিষেধ ও ঈদ পরবর্তী ছুটি কম থাকায় ভ্রমণপ্রেমীরা বান্দরবানমুখী কম হয়েছেন।

এছাড়া বান্দরবানের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতি এখনো দেশের অন্যতম আকর্ষণ। তাই পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় আবারও পার্বত্য এই জেলা মুখর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার জেলার দেবতাকুম পর্যটন কেন্দ্রে ৮০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। গত ঈদের ছুটিতে প্রায় ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন।

ঈদের ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটক কম

থানচিতে গত ঈদে ২ হাজারেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করলেও এবার মাত্র ৪০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। রুমায় এবার দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। গত ঈদেও এমন পর্যটকের আগমন ঘটেছিল। এছাড়া বান্দরবান সদরের নীলাচলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৮০০ ও মেঘলাতে ১৪০০ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। যা গত বছরের তুলনায় কম।

হোটেল হিলভিউ’র ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মো. ইউনুছ বলেন, আজ ও আগামীকাল তাদের হোটেলে প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে।

হোটেল হিল্টনের ফ্রন্টডেক্স ম্যানেজার তপন বড়ুয়া বলেন, তাদের হোটেলে ৬০ শতাংশ ও আগামীকালের জন্য ৪০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা খুবই কম। অন্যান্যবার যেখানে রুম দিতে হিমসিম খেতে হয়েছিল এবার অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে।

রোয়াংছড়ি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিংনু মং মারমা বলেন, দেবতাখুমে অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সমাগম কম হয়েছে। সারাদিন মাত্র ৭০০ পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানান তিনি।

রুমা পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি লাল রুকুয়াল বম বলেন, গত ঈদের মতো এবারও দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটক বগালেক, কেওক্রাডং ভ্রমণ করেছেন।

থানচি পর্যটক গাইড অফিসের সহকারী উত্তম ত্রিপুরা বলেন, আজ থানচিতে ৪০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছে। গত ঈদে যা ছিল প্রায় ২ হাজার।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ওনার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ঈদ পরবর্তী ছুটি কম ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দাভাবের কারণে এবারের ঈদে প্রত্যাশিত পর্যটকের সাড়া পাননি বলে ধারণা করেন। এছাড়াও বান্দরবানের যে পর্যটন কেন্দ্রগুলো রয়েছে সেখানে যাতায়াতে ব্যয়বহুল গাড়ি ভাড়াও অন্যতম কারণ।

বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে। দুইটি ভ্রাম্যমাণ টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ কাজ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নয়ন চক্রবর্তী/এফএ/জেআইএম