দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে শুরু করেছে। তপ্ত সূর্য তখনো ঠাঁই মাথার ওপরে। সূর্যের তীব্র আলোকরশ্মি আর গুমোট গরমে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস তখন রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো মুখরিত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায়।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টার পর রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত নভোথিয়েটার, সামরিক যাদুঘর ও জিয়া উদ্যান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে, দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের তৃতীয় দিন আজ। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটিতে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা নগরী। ফলে নেই চিরচেনা যানজট আর ব্যস্ত নগরের কোলাহল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিনোদনপ্রেমীরা ভিড় জমাচ্ছেন বিনোদন কেন্দ্রে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নভোথিয়েটার ও সামরিক যাদুঘরের সামনে দলে দলে মানুষের আনাগোনা। কেউ কেউ টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত। কেউ আবার বসে টিকিটের অপেক্ষা করছেন। অনেককেই টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
সামরিক জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শনার্থীরা/ছবি: জাগো নিউজ
এদিকে জিয়া উদ্যান এলাকায়ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্যান এলাকায় দর্শনার্থীদের অবাধ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে।
পরিবার নিয়ে রাজধানীর মিরপুর থেকে নভোথিয়েটারে ঘুরতে এসেছেন নিফাজ মণ্ডল। তিনি বলেন, ছুটিতো শেষ। আর কালকের দিনটা আছে। কাল বের হওয়া হবে না। পরশু থেকে অফিস, কাল সারাদিন বাসায় রেস্ট নেব, তাই আজ সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি।
নয় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সামরিক যাদুঘরে এসেছেন আরমান। তিনি বলেন, ছুটির দিনগুলোতে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। সব সময় তো স্কুল আর বাসার মধ্যেই থাকে। বাইরের পরিবেশটাও তো চেনাতে হবে।
জিয়া উদ্যান এলাকায় কথা হয় অয়নের সঙ্গে। পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতেই স্থায়ী বসবাস তাদের। তিনি বলেন, ছুটি চলছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই। তাই আজ সবাই প্ল্যান করে জিয়া উদ্যানে এক হয়েছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দেবো। তারপর যে যার বাসায় চলে যাব।
রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত নভোথিয়েটারে ঢোকার অপেক্ষা/ছবি: জাগো নিউজ
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন। ফলে তাদের অনেকেই এখনো ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় রাজধানীজুড়ে এখনো বিরাজ করছে নীরবতা।
কেআর/এমএমকে

