ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বোনকে নিয়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ফোনে অন্যান্যদের দেশ ছাড়ার তাগিদ দেন তারা। ঘটনার দিন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দ্রুত ‘সেফ জোনে’ যেতে বলেন শেখ রেহানা।
সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের আলাপের (কথোপকথন) রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয়েছে। এরপর এ মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ জুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এসআই আতিকুর রহমান।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সালমান এফ রহমানের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানার ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে।
আলাপের শুরুতেই শেখ হাসিনার উপদেষ্টাকে সরে যেতে তাড়া দেন শেখ রেহানা।
দুই মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই আলাপ হুবহু তুলে ধরা হলো-
সালমান: হ্যালো।
কর্নেল রাজিব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজিব বলছি স্যার। রেহানা আপা একটু কথা বলতো ওভার টু ওভার স্যার।
সালমান: কে?
কর্নেল রাজিব: রেহানা আপা, রেহানা আপা। জ্বি স্যার।
রেহানা: স্লামালাইকুম ভাইয়া।
সালমান: হ্যাঁ, অলাইকুমল্লাম।
রেহানা: জি আপনি কই?
সালমান: আমি আমার বাসায়।
রেহানা: থাইকেন না।
সালমান: থাকবো না, হ্যাঁ ঠিক আছে।
রেহানা: আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো… কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে।
সালমান: আচ্ছা, তোমরা অন্য জায়গায় চলে গেছ? আপাও গেছে?
রেহানা: জি ভাই। তো আপনি…
সালমান: আমরা যদি বাইর হইতে পারি, আমরা বের হয়ে যাবো। আনিসুল হককেই বের করে ফেলি সাথে?
রেহানা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান আর জয় যেটা বলছে আপনি ওইটা করেন।
সালমান: ঠিকাছে, ঠিকাছে। ওকে।
রেহানা: এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ শুড বি, মানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর আমি কনভিন্স করতেছি যে, মানে যা আছে ওটা করবো আরকি। এখানে একদম থাকা সেফ না।
সালমান: আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে ও কী বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?
রেহানা: ঐগুলো এখন বাদ দেন ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি
সালমান: ওকে।
রেহানা: জ্বি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।
সালমান: ফি আমানিল্লাহ।
রেহানা: স্লালামালাইকুম।
সালমান: অলাইকুমস্লাম।
নিজের এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। এ সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও তার সাথে কাঠ গড়ায় বসা ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্যরা।
এফএইচ/এমএএইচ/

