Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

তারিক সিদ্দিকীর গাড়িচালক-কেয়ারটেকার আবারও রিমান্ডে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর গাড়িচালক ও কেয়ারটেকারকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫...
Homeকাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বেড়েছে, রাজস্ব আয়ে রেকর্ড

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বেড়েছে, রাজস্ব আয়ে রেকর্ড

দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বাদু পানির মৎস্য ভাণ্ডার পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদ। ছয় দশক আগে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রধান লক্ষ্য করে এ হ্রদের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম এই হ্রদ। তবে ক্রমবর্ধমানভাবে হ্রদটিতে ছোট প্রজাতির মাছের প্রাচুর্যতা বাড়ায় ছোট প্রজাতির মাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েকবছরে কাপ্তাই হ্রদের মাছ বাজারজাতকরণ বেড়েছে। চলতি আহরণ মৌসুমে (আগস্ট – এপ্রিল) গত মৌসুম থেকে প্রায় এক হাজার টন মাছ বেশি বাজারজাত করা গেলেও এর ৭৫ শতাংশই কাচকি-চাপিলা; অর্থাৎ দুটি প্রজাতির মাছ।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে মাছ চাষ, বিপণন, রাজস্ব আদায় ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্র।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ আহরণ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের রাঙ্গামাটির প্রধান বিপণন কেন্দ্রসহ কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপকেন্দ্রে ৯ হাজার ৯৭১ টন বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ অবতরণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে পুরো আহরণ মৌসুমে অবতরণের (ল্যান্ডিং) পর বাজারজাত করা মাছ থেকে ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা শুল্কহার বা রাজস্ব আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির বিগত পাঁচ বছরের মৎস্য অবতরণ ও শুল্কহার আদায়ের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হ্রদের মাছের বাজারজাত ও রাজস্ব আয় দুটোই বেড়েছে। তবে ২০২০-২১ আহরণ মৌসুমের পর ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত টানা দু’বছর মাছ বাজারজাতকরণ ও রাজস্ব আয় কিছুটা কমলেও পরবর্তীতে সেটি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২০-২১ আহরণ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ৬ হাজার ৭৯৪ টন মাছ বাজারজাতকরণের বিপরীতে ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা শুল্কহার আদায় হয়। এছাড়া ২০২১-২২ মৌসুমে ৬ হাজার ১৫৪ টনের বিপরীতে ১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৫১১ টনের বিপরীতে ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৭ হাজার ৬৬৪ টনের বিপরীতে ১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৮ হাজার ৯৯৭ টনের বিপরীতে ১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থাৎ চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৯৭১ টনের বিপরীতে ২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের বাজারজাতকৃত মাছের প্রজাতিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এবার সবচেয়ে বেশি চাপিলা মাছ বাজারজাতকরণ করা হয়েছে। হ্রদ থেকে ৪ হাজার ৩৩১ টন চাপিলা মাছ বাজারজাতকরণ করা হয়, যা মোট বাজারজাতকৃত মাছের ৪০ শতাংশ। এছাড়া কাচকি মাছ বাজারজাত হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৭ টন, যা মোট বাজারজাত করা মাছের ৩৫ শতাংশ।

হিসাবে দেখা গেছে, কাচকি আর চাপিলা মাছ বাজারজাত হয়েছে মোট বাজারজাত করা মাছের ৭৫ শতাংশ। যেগুলো আকারে ছোট প্রজাতির মাছ। অর্থাৎ হ্রদের বাজারজাত করা মাছের মধ্যে কেচকি-চাপিলা থেকেই রাজস্ব আসে বেশি।

কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, চলতি মৌসুমে গত আহরণ মৌসুমের চেয়ে প্রায় ১ হাজার টনের মতো মাছ বাজারজাতকরণ বেড়েছে। এতে আমাদের শুল্কহার আদায়ও বাড়লো। বিশেষত চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে এবং পানি কমতে থাকায় এবার ৬ দিন আগে মাছ শিকার বন্ধ হলো। পুরো ৯ মাস আহরণ মৌসুমজুড়েই হ্রদ থেকে মাছ শিকার করতে পারছেন জেলেরা। এছাড়া অন্যান্য মৌসুমে হ্রদের পানি তাড়াতাড়ি কমতে থাকায় অনেক সময় ২০ থেকে ২৫ দিন আগেই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ করতে হয়েছে। সেজন্য তখন মাছ আহরণ কিছুটা কমেছে। এছাড়া আমাদের বিএফডিসির বিপণন কেন্দ্রগুলোতে মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে; মনিটরিং অবতরণকৃত মাছ বাড়ার অন্যতম কারণ।

কাপ্তাই হ্রদে কাচকি-চাপিলা মাছের আধিক্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ কমান্ডার বলেন, কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘদিন থেকে ছোট প্রজাতির মাছের প্রাচুর্যতা বেড়ে চলছে। তবে বড় প্রজাতির মাছগুলো বিএফডিসি বিপণনকেন্দ্র হয়ে বাজারজাতকরণের চেয়ে স্থানীয় বাজারে বেশির ভাগ চলে যায়। তবে কাপ্তাই হ্রদে ছোট প্রজাতির মাছ কেন বাড়ছে; এটি নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

আবু দারদা খান আরমান/এনএইচআর/এমএস