- শতকোটির মরিচ বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের থাবা
- প্রতিবছর বাজার বেড়ে ৩৫০ কোটি টাকার লেনদেন
- শুধু সারিয়াকান্দির চরেই লেনদেন ১৮০ কোটির ওপরে
- মরিচের রঙের ওপর নির্ভর করে দাম
- দালাল ধরলে বাড়ে মরিচের দাম
বগুড়ার যমুনাঘেঁষা চরগুলোর চারদিকে যেন লাল রঙের এক সমুদ্র। বাড়ির উঠান, বাঁধ, বালুচর—সবখানেই শুকাতে দেওয়া হয়েছে লালমরিচ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কৃষকের ঘরে যেন আগুনের আভা পড়েছে। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়, ছবির পেছনের গল্পটা এত সহজ না। এই ‘লাল সোনা’ শুধু ভালো ফলনের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজারের নিয়ন্ত্রণ, দামের খেলায় টানাপোড়েন আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য।
সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চল এখন উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুকনা মরিচ উৎপাদন এলাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ মৌসুমে সাত হাজার ১০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৮ হাজার ১৭৬ টনের বেশি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সারিয়াকান্দির চরেই লেনদেন হতে পারে ১৮০ কোটির টাকারও ওপরে।
উৎপাদনে সফলতা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত এক দশকে বগুড়ার যমুনাবিধৌত চরাঞ্চলে শুকনা মরিচ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের দিকে জেলায় মরিচের আবাদ ছিল তিন হাজার ৮০০ হেক্টর। উৎপাদন ছিল ১০ হাজার টনের কাছাকাছি। এর বাজারমূল্য ছিল ৮০-১০০ কোটি টাকার মধ্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চলে আবাদ বাড়তে থাকে। ২০২১-২৩ সময়কালে শুকনা মরিচ চাষ ৬৫০০-৭৮০০ হেক্টরে পৌঁছায়। উৎপাদন দাঁড়ায় ১২-১৫ হাজার টনের কাছাকাছি। যার বাজারমূল্য ১৩০-১৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
‘মাঠে ভালো ফলন হয় কিন্তু আড়তে গেলে বলে রং ঠিক না, শুকানো ঠিক না। তখন ১০ হাজার টাকার মরিচ সাত হাজারে বিক্রি করতে হয়’—মরিচ চাষি
সবশেষ ২০২৪-২৫ মৌসুমে শুধু শুকনা মরিচের উৎপাদন হয়েছে ১৮-২০ হাজার টন এবং এর বাজারমূল্য ৩৫০ কোটি টাকার ঘরে। উত্তরোত্তর শুকনা মরিচ চাষে সাফল্যের পেছনে রয়েছে চরাঞ্চলের উর্বর পলি মাটি, হাইব্রিড জাতের ব্যবহার, বড় মসলা কোম্পানির চাহিদা এবং স্থায়ী বাজার তৈরি।
এবার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে সাত হাজার ১০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ৮৭৬ টনের বেশি। বর্তমান বাজারদরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সারিয়াকান্দির যমুনা চর থেকে। এককভাবে এই উপজেলাতেই প্রায় ১৭০ কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব বলছে, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে গড়ে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন হয় ৮- ৯ মণ। বাজারে প্রতি মণ ৮-১২ হাজার টাকায় বিক্রি হলে বিঘাপ্রতি সম্ভাব্য লাভ দাঁড়ায় ৩০-৪০ হাজার টাকা।
তবে কৃষকদের ভাষ্য, বাস্তবে এই হিসাব সবসময় মেলে না। কারণ উৎপাদন খরচের বড় অংশ চলে যায় হাইব্রিড বীজে, যার দাম কেজিপ্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় সার, কীটনাশক, শ্রম ও সেচ খরচ। ফলে প্রকৃত ব্যয় অনেক সময় সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ফলনের অসমতা। একই চরে এক জমিতে ভালো ফলন হলেও পাশের জমিতে কম হতে পারে। তার ওপর বাজারে ‘গ্রেডিং’ ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় রং, আকার ও শুকানোর মান সামান্য কম হলেই দাম হাজার টাকার ব্যবধানে পড়ে যায়।
‘সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে সাত হাজার ১০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ৮৭৬ টনের বেশি। বর্তমান বাজারদরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সারিয়াকান্দির যমুনা চর থেকে। এককভাবে এই উপজেলাতেই প্রায় ১৭০ কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’
সারিয়াকান্দির কৃষক আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাঠে ভালো ফলন হয় কিন্তু আড়তে গেলে বলে রং ঠিক না, শুকানো ঠিক না। তখন ১০ হাজার টাকার মরিচ সাত হাজারে বিক্রি করতে হয়।’
মইনুল হাসান নামের আরেকজন বলেন, ‘ফসল বিক্রি করতেও দালাল ধরতে হয়। সরাসরি আড়তে গেলে দাম কম পাই। দালালকে কিছু টাকা দিলে ৪০০-৫০০ টাকা মণে বাড়ানো যায়।’
দামের নিয়ন্ত্রণ মধ্যস্বত্বকারীদের হাতে
চলতি মৌসুমে শুকনা মরিচের বাজারে দাম ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ ৮-১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এ দাম বাড়ার পেছনে শুধু চাহিদা-জাগান কাজ করছে না, বরং বাজার কাঠামোর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চরাঞ্চলে কোনো কেন্দ্রীয় পাইকারি বাজার নেই। কৃষকরা মরিচ নিয়ে আসেন স্থানীয় আড়তে। এখানেই প্রথম ধাপে মরিচের মান নির্ধারণ করা হয় রং, আর্দ্রতা, শুকানোর মান অনুযায়ী ‘গ্রেড’ ঠিক করা হয়। এরপর সেই গ্রেড অনুযায়ী দাম ঘোষণা করেন আড়তদাররা।
কৃষকদের বিকল্প বাজারে যাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে আড়ত যে দাম নির্ধারণ করে, সেটিই বাস্তব দাম হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মুনসুর আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক এলাকায় সবাই আলাদা দাম দিলে বাজার ভেঙে যাবে। তাই সমন্বয় করে দাম ঠিক করা হয়। তবে সমন্বিত দাম নির্ধারণ অনেক সময় কার্যত একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিণত হয়। বিশেষ করে কয়েকজন বড় আড়তদার পুরো বাজারের দাম নির্ধারণে প্রভাব রাখেন। সরবরাহ বেশি হলে দাম কমানো এবং কম হলে দ্রুত বাড়ানো এই চক্রের কাজ। এমন অভিযোগ কৃষকদেরই।’
আরও পড়ুন:
পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দোতলা ঘর, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা
উৎসবের মাসে বিষাদের ছায়া
আলু এখন ‘গলার কাঁটা’
হাওরজুড়ে হাহাকার, ধান কাটছে ‘নয়নভাগায়’
আধুনিক যন্ত্রে বদলেছে ভাগ্য, এক ফসলি জমি এখন সারা বছরের শস্যভাণ্ডার
নারী শ্রমিকরাই নীরব শক্তি
চরের বিভিন্ন এলাকায় কুতুবপুর, কর্ণিবাড়ী, হাটশেরপুর, চন্দনবাইশা, পাকুল্লা ও এলাঙ্গী চরে মরিচ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি কাজ করেন নারী শ্রমিকরা। মরিচ শুকানো, উল্টানো, বাছাই ও বস্তাবন্দি করার পুরো প্রক্রিয়াই তাদের হাতে। মজুরি দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা, কিছু ক্ষেত্রে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। কাজের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা। তবে চাপ বেশি হলে সূর্য ডোবা পর্যন্ত চলে।
‘চরাঞ্চলে কোনো কেন্দ্রীয় পাইকারি বাজার নেই। কৃষকরা মরিচ নিয়ে আসেন স্থানীয় আড়তে। এখানেই প্রথম ধাপে মরিচের মান নির্ধারণ করা হয় রং, আর্দ্রতা, শুকানোর মান অনুযায়ী ‘গ্রেড’ ঠিক করা হয়। এরপর সেই গ্রেড অনুযায়ী দাম ঘোষণা করেন আড়তদাররা’
রহিমা বেগম নামের একজন শ্রমিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘মরিচ বেশি থাকলে কাজও বেশি। তখন আয় একটু বাড়ে।’
রোজিনা খাতুন নামের আরেকজন বলেন, ‘এই কাজ কয়েক মাস থাকে, তারপর অন্য কাজ খুঁজি। তবে কাজের পরিবেশ কঠিন। মরিচের ঝাঁঝে চোখ জ্বালা, কাশি, শ্বাসকষ্ট আমাদের জন্য সাধারণ সমস্যা। কোথাও কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই।’
একই অভিযোগ করে আতিয়া খাতুন বলেন, ‘ঝাঁজে চোখে পানি আসে, তবুও কাজ করি। না করলে আয় নেই।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় আড়তগুলোতে মৌসুমভেদে ৫০-১৫০ জন নারীশ্রমিক কাজ করেন। পুরো চরাঞ্চলে এ সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়।
সংরক্ষণ-মান-আবহাওয়ার ঝুঁকি
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিচ চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটা মাঠে না, ফসল তোলার পর শুরু হয়। পাকা মরিচ শুকানো, আর্দ্রতা কমানো, ঠিকভাবে সংরক্ষণ—এ তিন ধাপই শেষ পর্যন্ত বাজারদর ঠিক করে দেয়। দেখা গেছে বেশিরভাগ কৃষক খোলা জায়গাতেই মরিচ শুকান। বাড়ির উঠান, বাঁধ, এমনকি চরের বালির ওপর বিছিয়ে সূর্যের তাপে শুকানোই প্রধান পদ্ধতি। এ পদ্ধতি পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। টানা রোদ থাকলে ৪-৫ দিনেই ভালো মানের শুকনা মরিচ পাওয়া যায়। কিন্তু মাঝখানে একদিন বৃষ্টি বা আর্দ্রতা বেড়ে গেলেই মরিচের রঙ কালচে হয়ে যায়। ঝাঁজ কমে, সংরক্ষণ ক্ষমতাও কমে যায়। এতে বাজারদর এক লাফে ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
‘গ্রাম পর্যায়ে আধুনিক শুকানো পদ্ধতি যেমন সোলার ড্রায়ার বা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার চালু করা গেলে কৃষকরা একই মরিচ থেকে ২০-৩০ শতাংশ বেশি দাম পেতে পারেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সীমিত থাকায় মরিচের আসল লড়াইটা মাঠে না শুকানো আর সংরক্ষণের ধাপেই নির্ধারিত হচ্ছে’—কৃষি বিশেষজ্ঞ
অন্যদিকে বড় আড়ত ও কোম্পানিগুলো তাদের সংগ্রহ করা মরিচ সংরক্ষণের জন্য তুলনামূলক উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কোথাও টিনশেডের নিচে উঁচু মাচায় শুকানো হচ্ছে, কোথাও বদ্ধ ঘরে কম আর্দ্রতায় রাখা হচ্ছে। ফলে একই এলাকার মরিচ হলেও যেগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুকানো ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর দাম খোলা জায়গায় শুকানো মরিচের চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুকানোর সময় মরিচের আর্দ্রতা ১০-১২ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে পারলে এবং বাতাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সংরক্ষণ করা গেলে মান অনেকদিন ঠিক থাকে। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে এই প্রযুক্তি বা অবকাঠামো নেই। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে দ্রুত বিক্রি করে দেন, যাতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। এতে দাম কম পেলেও বিক্রি করে দিতে হয়।’
আরও পড়ুন:
প্রশাসন ‘ম্যানেজড’, নিশ্চিহ্নের পথে চর-কৃষিজমি
কুয়াকাটায় ‘চর বিজয়ে’ বাড়ছে পর্যটন সম্ভাবনা
অবহেলিত এক জনপদ ‘চর কুশাহাটা’
ল্যাবেই বন্দি উদ্ভাবন, প্রয়োগ নেই মাঠে
মসলা চাষে প্রযুক্তির ছোঁয়া, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র
আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মরিচ চাষিদের আরেক সমস্যা জলবায়ুর অনিশ্চয়তা। চরাঞ্চলের কৃষি এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে নদীভাঙন ও বন্যা, অন্যদিকে অকাল বৃষ্টি। বিশেষ করে মরিচ শুকানোর মৌসুমে হঠাৎ বৃষ্টি হলে পুরো মৌসুমের হিসাব বদলে যেতে পারে। একদিনের বৃষ্টিতে শুকানো মরিচ ভিজে গিয়ে আবার শুকাতে হয়। এতে রং ও মান দুটোই নষ্ট হয়।
কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। মরিচের মানও ভালো থাকায় দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার চেইন নিয়ে প্রশ্ন
কৃষি বিশেষজ্ঞ মোতাহার আলী জানান, বগুড়ার চরাঞ্চলের মরিচ মাঠ থেকে ভোক্তার টেবিলে পৌঁছাতে একাধিক ধাপ পেরোয়। কৃষক, আড়তদার, পাইকার বা কোম্পানি, তারপর প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়ে খুচরা বাজার। এই পুরো চেইনের প্রতিটি স্তরেই দাম বাড়তে থাকে, কিন্তু সবচেয়ে কম মূল্য পান উৎপাদক কৃষক। মাঠ পর্যায়ে যে শুকনা মরিচ কৃষক ৭-৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন, সেটিই পরবর্তী ধাপে বাছাই, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। এই বাড়তি মূল্যের বড় অংশটাই থেকে যায় মধ্যবর্তী স্তর, বিশেষ করে আড়তদার ও কোম্পানির হাতে। ফলে শতকোটি টাকার এই বাজারে উৎপাদনের মূল ঝুঁকি নেওয়া কৃষক তুলনামূলক কম অংশ পাচ্ছেন।
এই ব্যবস্থাকে ভারসাম্যে আনতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন এই কৃষি বিশেষজ্ঞ। পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষকের সরাসরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, গ্রাম পর্যায়ে আধুনিক শুকানো ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালু করা, আড়তকেন্দ্রিক দামের ওপর স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা—এসব পদক্ষেপ নিলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে মরিচ প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত নারী শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এই অর্থনীতির বড় একটি অংশ অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাবে।’
মোতাহার আলীর মতে, গ্রাম পর্যায়ে আধুনিক শুকানো পদ্ধতি যেমন সোলার ড্রায়ার বা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার চালু করা গেলে কৃষকরা একই মরিচ থেকে ২০-৩০ শতাংশ বেশি দাম পেতে পারেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সীমিত থাকায় মরিচের আসল লড়াইটা মাঠে না শুকানো আর সংরক্ষণের ধাপেই নির্ধারিত হচ্ছে।
এসআর/এএসএম

