নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলছে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং শিশু সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন।
বুধবার (৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞিপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর গ্রেফতার হয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারের পরও ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করা চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছে আসক।
আরও পড়ুন:
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদরাসাছাত্রী: সেই শিক্ষক গ্রেফতার
অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা, যা বললেন সেই ‘হুজুর’
ডাক্তারের প্রশ্ন—তোমার সঙ্গে এ কাজ কে করেছে? মেয়েটি বলে ‘হুজুর হুজুর’
আসকের মতে, এত অল্প বয়সী একটি শিশুর গর্ভধারণের ঘটনা শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা-অল্প বয়স, পুষ্টিহীনতা এবং গর্ভধারণজনিত জটিলতা তার জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটি শিশুটির জন্য অবিলম্বে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু চিকিৎসা নয় বরং শিশুটির জীবন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়।
আসক আরও বলছে, বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি-২০১১ এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ঘাটতিকে সামনে এনেছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, শিশুটি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা সামাজিক চাপ থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
জেপিআই/এসএনআর

