হজ মৌসুমে পশু জবাই থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে মক্কায় প্রথমবারের মতো আধুনিক মডেল কসাইখানা চালু করেছে সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট।
মডেল লাইভস্টক সিটি নামে এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পশুর অবশিষ্টাংশ ও জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কসাইখানাটি শতভাগ বর্জ্য ল্যান্ডফিলে না পাঠিয়ে পুনর্ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
এখানে রক্ত, চর্বি ও পশুর অভ্যন্তরীণ অংশ আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করার বিশেষ ইউনিট, হাড় গুঁড়ো করার ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে এ প্রকল্পের।
ওক্লিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই কেন্দ্র পশুর দেহের প্রায় ৪৫ শতাংশ বর্জ্যকে বাজারজাতযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জৈব সার, প্রোটিন পাউডার এবং পশুখাদ্যের উপাদান।
সৌদি পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদুল আজহা ও হজের সময় অনুমোদিত কসাইখানা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মাংসের মান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের অনুমোদিত সব কসাইখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি দল রয়েছে, যা পশুবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করছে।
এদিকে হজ মৌসুমে কোরবানির পশুর বাড়তি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দেশটিতে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ভেড়া, ৭৬ লাখ ছাগল, ২২ লাখ উট এবং ৫ লাখ ১০ হাজার গবাদিপশুর মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মক্কার বাজার ও কসাইখানাগুলোতে পর্যাপ্ত মানসম্মত পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ
এমএসএম

