Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

রামিসা হত্যা মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি আজ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন শুনানি সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।...
Homeপাকিস্তানের ‘গোয়াদার বন্দর’ ঘিরে সৌদি-কুয়েত-চীনের নতুন কৌশল

পাকিস্তানের ‘গোয়াদার বন্দর’ ঘিরে সৌদি-কুয়েত-চীনের নতুন কৌশল

২০২৬ সালের ইরান-মার্কিন যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সংকট পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রস্তুতি, শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সমুদ্রপথের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত রাখার ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করছে সৌদি আরব ও কুয়েত। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এই উদ্যোগকে পারস্য উপসাগরভিত্তিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের জন্য ১ কোটি ব্যারেল এবং কুয়েতের জন্য ৭০ লাখ ব্যারেলের সংরক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হতে পারে। এতে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর পারস্য উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নিরাপত্তা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

যদিও প্রকল্পটি এখনো পরিকল্পনা ও কারিগরি পরামর্শ পর্যায়ে রয়েছে; তবুও এটি এরই মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করেছে। কারণ চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট আঞ্চলিক সংকট পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের তেল মজুত সক্ষমতা মাত্র ২০ থেকে ৩০ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। অথচ দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অধিকাংশ বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশের জন্য ৯০ দিনের মজুতকে আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।

পাকিস্তানের মোট অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ফলে এ পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হলে দেশটিতে দ্রুত জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, জরুরি আমদানির প্রয়োজন হয় এবং জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময় পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪৫৮ রুপির কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

সংকটের সময় সৌদি আরব ও কুয়েত বিকল্প সরবরাহের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সহায়তা করে। এতে স্পষ্ট হয় যে, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো পাকিস্তানকে তাদের বৃহত্তর জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই প্রকল্প পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা- গোয়াদার বন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এনার্জি সিটি’তে রূপান্তরের লক্ষ্যকেও এগিয়ে নেবে। এই পরিকল্পনায় তেল সংরক্ষণাগার, শোধনাগার, এলএনজি ও এলপিজি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক পুনঃরপ্তানি কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ জলপথের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় গোয়াদার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেশি। উপসাগরে নৌ অবরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক সংকট দেখা দিলেও সেখানে সংরক্ষিত জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে সরবরাহ শৃঙ্খল, বন্দর, তেল ডিপো ও জ্বালানি অবকাঠামো প্রায়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাই বিকল্প সংরক্ষণ সুবিধা এখন জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এই উদ্যোগটি চীনের দীর্ঘমেয়াদি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ গোয়াদার পোর্ট চায়না-পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোরের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক অবকাঠামো প্রকল্প থাকবে না বরং উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাসে পরিণত হতে পারে।

একই সঙ্গে এটি সৌদি আরব, কুয়েত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে নতুন ধরনের কৌশলগত সমন্বয়ের ভিত্তি গড়ে তুলবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে গোয়াদার বন্দর উপসাগরীয় জ্বালানি, চীনের সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। অর্থায়ন, নিরাপত্তা, অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা কাঠামো এবং বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ বেশকিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারপরেও ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের এই কৌশলগত তেল মজুত পরিকল্পনা এরই মধ্যে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেএম