Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

মিয়ানমার সীমান্তে মর্টারশেল বিস্ফোরণে কিশোর নিহত

বান্দরবান-মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে সুমিনাইং তঞ্চঙ্গ্যা (১১) নামের এক বাংলাদেশি কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বাইশফাঁড়ী-মিয়ানমার সীমান্তের ৩৯ নম্বর পিলার...
Homeপ্রাচীন সৌন্দর্য রহস্যে চুলে ধূপ ব্যবহার কতটা কার্যকর?

প্রাচীন সৌন্দর্য রহস্যে চুলে ধূপ ব্যবহার কতটা কার্যকর?

চুলে ধূপ বা ধুনোর ব্যবহার শুনলে অনেকের কাছেই বিষয়টি অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু প্রাচীন রূপচর্চার ইতিহাস বলছে, এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং বহু পুরোনো একটি ঐতিহ্য। বিশেষ করে রাজপরিবার ও অভিজাত নারীদের মধ্যে গোসলের পর চুল শুকানো ও সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য সুগন্ধি ধূপ ব্যবহারের প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস কিছুটা হারিয়ে গেলেও এখন আবার প্রাকৃতিক হেয়ার কেয়ার হিসেবে এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রাচীন রূপচর্চায় ধূপের ব্যবহার

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীন নারীরা গোসলের পর চুল শুকাতে যে ধূপ ব্যবহার করতেন, তা মূলত ‘সামব্রানি ধূপ’ নামে পরিচিত ছিল। এটি স্টাইরাক্স নামের একটি বিশেষ গাছের নির্যাস থেকে তৈরি এক ধরনের প্রাকৃতিক রজন। অনেকে একে লোবান নামেও চেনেন। এই ধূপ জ্বালালে যে কস্তুরীর মতো সুগন্ধ ছড়ায়, তা মুহূর্তেই ঘরের পরিবেশকে শান্ত ও আরামদায়ক করে তোলে। তৎকালীন সময়ে এটি শুধু সৌন্দর্যচর্চার অংশ ছিল না, বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের একটি স্বাভাবিক রীতি হিসেবেই বিবেচিত হতো।

শরীর ও মন শান্ত করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি

প্রাচীন ধারণা অনুযায়ী, গোসলের পর ভেজা চুলে ধূপের ধোঁয়া ব্যবহার করা হতো শরীর ও মনকে শান্ত করার জন্য। বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিতে এই ভেষজ ধোঁয়া শরীরের বাত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হতো।

ধূপের উষ্ণ ও সুগন্ধিযুক্ত ধোঁয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, ক্লান্তি দূর করে এবং এক ধরনের প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে। ফলে এটি শুধু রূপচর্চা নয়, মানসিক প্রশান্তির একটি প্রাচীন থেরাপি হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

চুলের যত্নে ধূপের ভূমিকা

শুধু মানসিক প্রশান্তিই নয়, চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ধূপের রয়েছে বেশ কিছু উপকারিতা। সামব্রানি বা লোবান ধূপে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো স্ক্যাল্পকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে যখন এতে নিম, তুলসি বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মেশানো হয়, তখন এটি শক্তিশালী অ্যান্টি-

ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাংগাল প্রভাব তৈরি করে। ফলে স্ক্যাল্পে জমে থাকা ময়লা, অতিরিক্ত তেল এবং দুর্গন্ধ দূর হয়।

খুশকির সমস্যায় ভোগা অনেকেই এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে উপকারী মনে করেন। এছাড়া ভেজা চুল ধূপের ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাড়ে, যা চুলের গোড়াকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি

যদিও এটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি, তবুও প্রতিদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসে এক থেকে দুইবার এই ধরনের ধূপ ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই সাবধানতা জরুরি। বিশেষ করে বন্ধ ঘরে নয়, খোলা বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় এটি ব্যবহার করা উচিত।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

ঘরে এই প্রাচীন রূপচর্চা চেষ্টা করতে চাইলে একটি নিরাপদ পাত্রে সামব্রানি ধূপ জ্বালাতে হবে। ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে ভেজা চুল থেকে অন্তত ১৫-২৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রেখে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আনতে হবে।

এরপর আলতো করে চুল আঁচড়ে নিলে ধূপের প্রাকৃতিক সুগন্ধ চুলে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্ক্যাল্পে থাকা প্রাকৃতিক তেলও সমানভাবে বিতরণ হয়। এতে চুল আরও মসৃণ ও সুগন্ধি অনুভূত হয়।

চুলে ধূপের ব্যবহার মূলত একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রূপচর্চা, যা আজও প্রাকৃতিক যত্নের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই পুরোনো পদ্ধতিও আধুনিক জীবনে এক নতুন সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।

সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া, টাইমস নাউ ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই