Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeবকেয়া বেতনের দাবিতে চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বকেয়া বেতনের দাবিতে চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বকেয়া বেতন, রেশন, পূজার উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবিতে হবিগঞ্জের চারটি চা বাগান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে চা শ্রমিকরা। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি, লালচান, মৃতিঙ্গা ও মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে এ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, দেউন্দি কোম্পানির অধীনে চারটি বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন। মালিকপক্ষ ২০২২ সাল থেকে শুধু সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি। এমনকি গত ৬ মে শ্রীমঙ্গলে সভায় সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত হলেও তারা তা বাস্তবায়ন করেননি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আমাদের ৭ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

দেউন্দি চা বাগানের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন বা দাবি দাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শ্রমিকদের তরফ থেকে কোন আবেদন পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে আইনগত বাধা আছে।

চা শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না ৪ বাগানের শ্রমিকরা। ফলে বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। ফলে শ্রমিকদের বেতন, পূজার বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে গত ৬ মে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলে মালিক, শ্রমিক ও শ্রম অধিদপ্তরের ত্রিপাক্ষিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় দ্রুত শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করার জন্য।

এছাড়াও বর্ষা শুরুর আগে জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বকেয়া বেতন, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সাপ্তাহিক তলব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত পূরণ না করায় দেঊন্দি কোম্পানির চারটি বাগানের শ্রমিকরা সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে নাট্য মন্দিরে অবস্থান নেন।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এনএইচআর/এমএস