Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

গেমপ্লিফাইয়ের সহযোগিতায় এআই প্রশিক্ষণ নিলো জাগো নিউজের সংবাদকর্মীরা

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা। প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে পৃথিবী। পুরনো প্রযুক্তি হচ্ছে আরও আপডেট, আরও নিখুঁত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা...
Homeবিদেশ যাওয়ার টাকা না পেয়ে সৎমাকে হত্যা, দুই দশক পর ছেলের মৃত্যুদণ্ড

বিদেশ যাওয়ার টাকা না পেয়ে সৎমাকে হত্যা, দুই দশক পর ছেলের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কাফরুলে বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না পেয়ে সৎমাকে চাপাতি দিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই দশক পর রায় দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলায় আসামি মো. শামসুল হক জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাফরুল থানার দক্ষিণ কাফরুলের ২৩০/এ নম্বর এলাকার একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সালেহা বেগম ছিলেন মামলার বাদী মো. আ. হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শামসুল হক জুয়েল ছিলেন বাদীর প্রথম পক্ষের ছেলে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকার দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৎমা সালেহা বেগমকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন জুয়েল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২০ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে থেকেই বিদেশ যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা দাবি করে আসছিলেন জুয়েল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি বাসায় যান। এ সময় সালেহা বেগম তাকে হালুয়া-রুটি খেতে দেন।

রাতে খাবার শেষে সালেহা বেগম তার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে আবারও বিদেশ যাওয়ার টাকার দাবিতে পরিবারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন জুয়েল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে সালেহা বেগমের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন নিহতের মেয়ে সাহানারা আক্তার সুখী ও ছেলে আজিজুল হক ইমন। তারা আদালতে সাক্ষ্যে জানান, মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং জুয়েলকে চাপাতি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর সালেহা বেগমের গলা থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের সোনার চেইন, হাতের দুটি আংটি এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান জুয়েল। একই সঙ্গে ছোট বোন সাহানারা আক্তার সুখীকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

পরে গুরুতর আহতাবস্থায় সালেহা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় হাইটেক ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে নিহতের স্বামী মো. আ. হক কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ আদালতে বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক আলামতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনার সময় জুয়েল ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তিনি নির্দোষ। তবে আদালত উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সেই দাবি গ্রহণ করেননি।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মো. শামসুল হক জুয়েলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে এবং অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(এ) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে বা গ্রেফতার হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে দণ্ড কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার জব্দ করা আলামত বিধি অনুযায়ী ধ্বংসেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শামসুল হক জুয়েলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল থানার বাধুলী এলাকায়। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার কাফরুল থানার কচুক্ষেত বউবাজার এলাকার হাসান মাতব্বরের মাচ্ছা বাড়ি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘ ২০ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া এ রায়কে নিহত পরিবারের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমডিএএ/এমএএইচ/