সারাদেশে বেদখল হওয়া খাসজমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের সপ্তম অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিবেশনটি হয়।
বেদখল হওয়া খাসজমি উদ্ধারে ডিসিদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। খাসজমি, এটা বাংলাদেশের সরকারি সম্পত্তি। এটা অবশ্যই দেখভালে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে এ ধরনের ইয়েগুলো (দখল) খুব বেশি হয়েছে। আমরা সবকিছুই খুব দ্রুত সময়ে পুনরুদ্ধারে সব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি এবং গ্রহণ করার নির্দেশও দিয়েছি।’
ভূমি রেজিস্ট্রেশন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার উদ্যোগ নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা আমরা একই ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছি। অতীতে এটা ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছিল। চেষ্টা করছি পুনরায় ফিরিয়ে আনার।’
ভূমি খাতে অনেক দুর্নীতির কথা শোনা যায়। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানি, এটা দেশবাসী জানে, সারা বিশ্বও জানে। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনে এ বিষয়ে লিখছি এবং পাঠাবো। সে যে-ই হোক, যত বড়ই হোক। দেশ আমাদের সবার, এটা জনগণের। আমরা জনগণের সেবা করার জন্য আসছি। কেউ যদি অতীতে (দুর্নীতি) করে থাকে তার জন্য অবশ্যই আইন তার নিজস্ব গতিতেই এগোবে।’
আগামী ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী ভূমি মেলা উদ্বোধন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণকে আরও সচেতন করার জন্য এবং তারা যেন অত্যন্ত নির্ভেজাল ভূমিসেবা ও দালালদের হাত থেকে রক্ষা পান, আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভূমিসেবা মেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি দিগন্ত উন্মোচন হবে।
এসময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগগুলোর ঠিকমতো প্রচার হচ্ছে না, মানুষ এটা সম্পর্কে জানছে না। এজন্য দেখা যাচ্ছে অনেক সময় তারা সেবা নিয়ে কিছু বিড়ম্বনায় পড়ছে। যেখানে পুরোপুরি অটোমেটেড একটা সিস্টেম আছে। এখন আমরা আরও, মানে একদম কাছাকাছি আছি পুরোটাকে একটি ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসতে। যেখানে আর কোনো মানব হস্তক্ষেপ বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ থাকবে না।’
সেবা পাওয়ার বিড়ম্বনা এখনই ৯০ শতাংশের মতো কমে গেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়াগুলো একদম ত্রুটিহীন করে নিচ্ছি। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেটা, সেটা আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেই, এটা হলো আইন মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে হোক বা আমাদের জানানোর ব্যর্থতার কারণে হোক, এগুলো কিন্তু মানুষ জানে না। তো হয় কী, যখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক যারা হয়রানি বা কোনো সমস্যার শিকার হন, অটোমেটিক তারা মনে করে ভূমিসেবাটা ঠিকমতো পাচ্ছি না, ভূমি মন্ত্রণালয় ঠিকমতো সেবা দিচ্ছে না।’
এ বিষয়টি জনগণকে জানানোর জন্য ডিসিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরএমএম/একিউএফ

