Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ পিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। নিজের ভেরিফায়েড...
Homeমানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অনন্য নজির

মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অনন্য নজির

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, ‘মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সেনাদের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ তিনি প্রায় অভিন্ন কথা বলেছিলেন ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফরকালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও। সেদিনও জাতিসংঘের মহাসচিব শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রকৃত অর্থেই চরম পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন না।

বিশ্বের অনেক দেশের সৈন্যরা হামলার শিকার হলে অনেক ক্ষেত্রেই তারা নির্মম আচরণ করেন। কিছু কিছু দেশে নৃশংসভাবে গুলি চালানো হয়। তাতে অনেক বেসামরিক মানুষ মারা যায়। তারা মানবাধিকারকে তোয়াক্কা করেন না। কিন্তু বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তারা দেশ-বিদেশে যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সুনাম কুড়িয়েছে। অতীতের রেকর্ড পর্যালোচনা করলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ঘটনাও পাওয়া যায়নি। দেশেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জাতি গঠন এবং নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। তাঁরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কার্যকরভাবে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োগ করেন। নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ‘ব্লু-হেলমেট’র অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে সেই ১৯৮৮ সাল থেকেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ‘মজ্জা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ৩৮ বছর যাবত শান্তিরক্ষা মিশনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠেছে দেশটি। বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে নিজেদের।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল। মোট ৪৩টি দেশে জাতিসংঘের ৬৩টি শান্তি মিশনে বাংলাদেশের ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ১০৮ জন। বর্তমানে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডিআর কঙ্গো, সাউথ সুদান, লেবানন, আবেই (সুদান) ও ওয়েস্টার্ন সাহারায় ৬টি মিশনে ৩ হাজার ৬০৮ জন সেনা সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশসহ মোট শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২১২ জন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর সামগ্রিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় তাঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

অসামান্য অবদানের জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন তাঁরা বিশ্বজুড়ে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবেও অন্যতম শীর্ষে রয়েছে ব্লু-হেলমেটধারীরা। দেশের জন্য এই অনন্য সম্মান বয়ে আনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৯ মে) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিদেশের মাটিতে শত্রুদের সামনে মাথা নত করেনি কখনও। কঠিন বিপদ-সংকটময় মুহূর্তে জীবনঝুঁকির মধ্যেও জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করে যাচ্ছেন অহর্নিশ। মানবাধিকারের প্রতি যত্নশীলতারও অনবদ্য উদাহরণ তাঁরা। বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সিয়েরালিওন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তাদের দেশের প্রধান ভাষা বাংলা করতে না পারলেও দেশটির দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রচলন বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিভাত।

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। কোথাও তীব্র শীত, দুঃসহ গরম বা ক্লান্তিকর আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আঞ্চলিক বৈষম্যকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন বিশ্ব মানবতার সেবায়। পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবিকতার কারণে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা বিশ্বের সব মানুষের কাছে আজ অনন্য এক দৃষ্টান্ত। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে বিভিন্ন দেশের জাতিগত সংঘাত মোকাবিলা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিচিত্র দেশের রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ ও চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা অনুকরণীয় দায়িত্ব পালন করায় বিশ্বময় প্রশংসিত হচ্ছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি আর সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ। সে দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই বিশ্বশান্তি বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। সে আলোকেই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিশ্বমানবতা প্রতিষ্ঠায় তাঁরা রেখে চলেছেন অসামান্য অবদান। বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর কাছে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরছেন। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনীর সদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং উঁচু মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মিশন এলাকার জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে। তাদের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবিকতায় তাঁরা আজ বিশ্বমঞ্চে আত্মত্যাগের অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত। তাদের অতীত ইতিহাস গর্বের। তাঁরা সামনের সময়েও পথ চলবে মাথা উঁচু করে।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সন্ধানী বার্তা, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো.কম।

এইচআর/এমএস