পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরার উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করা হলেও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি এলাকা। হাট সরানোর একদিন পরও সেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে পশুর বর্জ্য, গোবর ও কাদার স্তূপ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, হাট সরানোর সঙ্গে সঙ্গেই এলাকা পরিষ্কার করা হবে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দেরিতে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন। কেউ পানি ছিটাচ্ছেন, আবার কোথাও হাঁটার পথের পাশে জমে আছে বর্জ্যের স্তূপ।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যাত্রীরা। দুর্গন্ধ আর কাদার কারণে চলাচল করতে গিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন অনেকে।
উত্তরার উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে ঈদের পরের দিন শুক্রবারও পড়ে ছিল পশুর বর্জ্য, ছবি: জাগো নিউজ
তারা এটিকে নৈরাজ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং অবৈধ পশুর হাট ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রুহুল আমিন নামের এক পথচারী বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই নাক চেপে ধরতে হচ্ছে। চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ, তার ওপর কাদার কারণে চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
উত্তরার উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে ঈদের পরের দিন শুক্রবারও পড়ে ছিল পশুর বর্জ্য, ছবি: জাগো নিউজ
দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পুরো এলাকা পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
মেট্রো স্টেশনের পাশে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদের পরও বর্জ্য ও দুর্গন্ধে ভোগান্তি চলছেই। এ অবস্থাকে ‘নৈরাজ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এটি কোনোভাবেই পশুর হাটের নির্ধারিত স্থান ছিল না, বরং কিছু লোভী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক স্বার্থে এখানে হাট বসিয়েছিল।
উত্তরার উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে ঈদের পরের দিন শুক্রবারও পড়ে ছিল পশুর বর্জ্য, ছবি: জাগো নিউজ
হালিমুল নামের এক পথচারী বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ নৈরাজ্য। এখানে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি ছিল না। কিছু লোভী মানুষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টাকা কামানোর জন্য এটি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, হাট বসানোর কারণে যেসব গাছপালা ও সবুজ এলাকা নষ্ট হয়েছে, তা দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য সেখানে অবিলম্বে গাছ লাগানো উচিত।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্ভব নয়।
উত্তরার উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে শুক্রবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ছবি: ডিএনসিসি
চৌধুরী আলমাস নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না। তারা জড়িত ছিল, তাই তাদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইএইচও/এমএমএআর

