Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

শ্বেতী রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

শ্বেতী রোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং শ্বেতী-কুষ্ঠসহ যে কোনো দুরারোগ্য ও কঠিন রোগ-ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকতে বেশি বেশি পাঠ করুন এই দোয়াটি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ...
Homeবরিশালে গরুর চামড়া ৩০০ টাকা, খাসির চামড়া ফ্রি!

বরিশালে গরুর চামড়া ৩০০ টাকা, খাসির চামড়া ফ্রি!

বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী কোরবানির ঈদে তারা আর চামড়া সংগ্রহ করবেন না। অনেকেই ন্যায্য দাম না পেয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ফেলে রেখেই চলে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের প্রায় ৮০ শতাংশ টাকা এখনো বকেয়া থাকায় তারাও চরম সংকটে রয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) নগরীর পোর্ট রোড গিয়ে চামড়া বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

সেখানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যান, রিকশা ও অটোযোগে চামড়া আসতে শুরু করেছে।

নগরীর ধান গবেষণা রোডের একটি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা সোহাগ গাজী জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের মাদরাসা থেকে এবার সিদ্ধান্ত ছিল চামড়া সংগ্রহ করা হবে না। পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা সংগ্রহে নামি। তিনি বলেছিলেন, প্রতি ফুট গরুর চামড়া ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখি গরুর চামড়া ৩০০ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।’

বটতলা এলাকার খাজা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কুদরত আলী বলেন, ‘সারাদিন পরিশ্রম করে যদি একটা চামড়া ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তাহলে কষ্টের শেষ থাকে না। আমাদের একেকজন ছাত্রের পেছনে ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয়। তাহলে বোর্ডিংয়ে আর কী থাকে? গাড়ি ভাড়াও ওঠে না।’

মুসলিম গোরস্থান লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দানশীল ব্যক্তিরা আমাদের কাছে চামড়া দিয়ে যান। আমরা আগে থেকেই শুনেছিলাম এবার দাম কম হবে, কিন্তু এত কম হবে বুঝিনি। গরুর চামড়ার সঙ্গে খাসির চামড়া একপ্রকার ফ্রিতেই দিতে হচ্ছে।’

পোর্ট রোডের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘গত বছরের মাত্র ২০-২৫ শতাংশ টাকা আমরা পেয়েছি। এ কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। সাতটা চামড়া এলে একটা রাখি, বাকি ছয়টা ফিরিয়ে দেই। গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় কিনছি, আর ছাগলের চামড়ার কোনো দামই নেই। এসব চামড়া ২০-৩০ দিন পর ঢাকায় পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘টানাপোড়েনের মধ্যেই ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। আগে বরিশালে ১৫০-২০০ জন ব্যবসায়ী ছিলেন। এখন আছে সর্বোচ্চ ১০-১৫ জন।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পোর্ট রোড থেকে সংগ্রহ করা চামড়া বালুরঘাটে নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর পানিতে ধোয়া হচ্ছে। এরপর ট্রলারে করে রসুলপুরে নেওয়া হয়। যেখানে লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করছেন শ্রমিকরা।

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রমিক আবু বক্কর বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছর ধরেই চামড়ার বাজারের এমন অবস্থা। বছর বছর ব্যবসায়ী কমছে, আমাদের কাজও কমে গেছে। মানুষ অনেক চামড়া নিয়ে আসে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা কিনতে চায় না। তারা কিনেও কী করবে? ট্যানারি মালিকরা তো টাকা দেয় না।’

শাওন খান/এসআর/এমএস