Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

আজই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সোমবারই (২৫ মে) সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে থাকা রুবিও...

Here’s the latest.

Homeমোস্তাফিজের অভাবে ভুগতে হলো কেকেআরকে!

মোস্তাফিজের অভাবে ভুগতে হলো কেকেআরকে!

রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে আইপিএলের এবারের আসরের প্লে-অফে খেলার সুযোগ তৈরি হতো কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর)। যদিও তার জন্য অনেক ‘যদি’ ‘কিন্তু’র হিসেব মেলাতে হতো আজিঙ্কা রাহানের দলকে।

তবে, রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের জয়ে সব হিসেব-নিকেশ শেষ হয়ে যায়। ‘যদি’ ‘কিন্তু’র হিসেবও মেলাতে হয়নি। এমনকি যেখানে জয় ছিল শর্ত, সেখানে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৪০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে এবারের আইপিএল থেকে বিদায়ই নিতে হয়েছে শাহরুখ খানের দলকে।

১৪ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স টেবিলে ছিল ৭ম স্থানে। অথচ, মৌসুম শুরুর আগে নিলামে সবচেয়ে বেশি খরুচে দলগুলোর একটি ছিল এই কেকেআর। কিন্তু একের পর এক ইনজুরি আর বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় পুরো পরিকল্পনাই এলোমেলো হয়ে যায় ফ্রাঞ্চাইজিটির।

আইপিএল শুরুর আগেই কেকেআরকে বড় ধাক্কা খেতে হয়। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করতে পারেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার জন্যও বেশ নাম-ডাক রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের। যে কারণে সর্বশেষ নিলামে তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছিল কেকেআর।

মোস্তাফিজকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনাও ছিল কেকেআরের। আইপিএলের এবারের পুরো আসর ঘিরে দল সাজানোর যে প্ল্যান, সেখানে বোলিং ডিপার্টমেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মোস্তাফিজ; কিন্তু ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে বিসিসিআই কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিতে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে কেকেআর। যার রেশ ধরে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলা হয়নি বাংলাদেশের।

কিন্তু কেকেআরের বোলিং নিয়ে যে পরিকল্পনা সাজানো ছিল, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ফলে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়। বোলিংয়ে আর ভয়ঙ্কর চেহারাটা তৈরি করতে পারেনি কেকেআর। মোস্তাফিজের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে নেয়া হলেও নিয়মিত একাদশে সুযোগই পাননি তিনি। মোটকথা, মোস্তাফিজের যে ঘাটতি, সেটা পুষিয়ে নিতে না পারাটা এবারের আইপিএলে বেশ ভুগিয়েছে কেকেআরকে।

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর কেকেআরের সঙ্গে যে দুর্ভাগ্যের যোগ হয়েছে, তা আইপিএলের শুরু থেকেই তাদের পারফরম্যান্সে ছাপ ফেলতে শুরু করে। কারণ, আইপিএলের শুরুতে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে গিয়েছিল তারা। টানা এই পরাজয়ের ফলে কার্যত তলানিতে নেমে গিয়েছিল কেকেআর।

তবে অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বের ওপর আস্থা ছিল সবার। কারণ, এই রাহানেই একসময় অস্ট্রেলিয়ায় ৩৬ রানে অলআউট হওয়া ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিলেন। ইনজুরিতে জর্জরিত দল নিয়ে সেখানেও যেমন লড়েছিলেন, কেকেআরের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি নিজেই। রাহানের ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দল হিসেবে একসঙ্গে থাকা।

লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে কেকেআর মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের; কিন্তু একই সময়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচের ফলও ছিল কেকেআরের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও শেষ পর্যন্ত দিল্লির কাছে হারতে হয়েছিল কেকেআরকে।

শেষ ম্যাচের হিসাব-নিকাশ যখন সামনে, তখন দলের অবস্থা কী ছিল- সে সম্পর্কে রাহানে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল অন্য ম্যাচের কোনো লাইভ আপডেট তারা নেবেন না। দিল্লির ইনিংস শেষ হওয়ার পর, যখন কেকেআরের সামনে ২০৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়, তখনই তারা জানতে পারে রাজস্থান রয়্যালস জিতে গেছে। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় কেকেআরের বিদায়।

২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় কলকাতা। পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থানে থেকেই শেষ হয় তাদের মৌসুম।

অধিনায়ক রাহানে স্বীকার করেছেন, মৌসুমের শুরু থেকেই তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। মোস্তাফিজের না থাকা, বেশ কয়েকজন পারফরমার ক্রিকেটারের ইনজুরির কারণে আইপিএল শুরুর আগেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় কেকেআর।

এ কারণে রাহানে মৌসুমের প্রথম সংবাদ সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, এটি ছিল সুযোগের মৌসুম। তার মতে, কেকেআরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দুই তরুণ ক্রিকেটার- কার্তিক ত্যাগি ও অনুকূল রায়। মন্দের ভালো হিসেবে- এই দুই তরুণই ভালো ক্রিকেট উপহার দিয়েছে কেকেআরকে।

কার্তিক ত্যাগি পুরো মৌসুমে নিয়েছেন ১৮ উইকেট। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে লিগ পর্বে এটি ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা। অন্যদিকে অনুকূল রায়, কেকেআরের হয়ে প্রথম পূর্ণ মৌসুম খেলতে নেমে ১২ ইনিংসে নিয়েছেন ৯ উইকেট। পাশাপাশি দুটি সফল রানতাড়ায় অপরাজিত থেকেছেন তিনি।

আইএইচএস/