Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

বুলেট ৬৫০ বাজারে আনছে রয়্যাল এনফিল্ড

ক্লাসিক মোটরসাইকেলের জগতে ‘বুলেট’ নামটি দীর্ঘদিন ধরেই এক আলাদা আবেগের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাইকপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। এই মডেলকে এবার আরও শক্তিশালী রূপে...
Homeচিড়িয়াখানায় কেমন আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প?

চিড়িয়াখানায় কেমন আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোদিনও বাংলাদেশে আসেননি। প্রথম দফা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দ্বিতীয় দফায় ড. ইউনুস আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনোবারই তার বাংলাদেশ সফরের ফুরসত হয়নি। বেরসিক জনতা তাই প্রশ্ন করে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুল বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের মহিষের মাথায় আসলো কী করে! ট্রাম্পের হলদেটে ফুরফুরে চুল যেমন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই ব্যতিক্রম, একইরকম চুল বাংলাদেশের মহিষের মাথায়ও ব্যতিক্রম।

জানা গেছে, বিরল আলবিনিজম নামে একটি ডিসঅর্ডারের কারণে মহিষটির চুলের এমন দশা। প্রতি দশ থেকে কুড়ি হাজার গোলাপি মহিষের মধ্যে একটির এরকম হয়ে থাকে। বিপত্তিই বলেন, আর মজাদার কাহিনিই বলেন—কাকতালীয় এই ঘটনাই এখন দেশে-বিদেশে বড় একটি আলোচনার বিষয়। আমাদের দেশে সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে খরিদ্দার আকর্ষণ করার জন্য গরু এবং মহিষকে তেল-সিঁদুর দিয়ে সাজানো হয়। রঙিন ফিতা, লাল কাপড়, এমনকি রঙিন পোশাকও পরানো হয়। বড় বড় ষাঁড় এবং দশাসই গরুর বিখ্যাত মানুষের নামে নামকরণ করা হয়। কোনোটার নাম নেইমার, কোনোটার নাম মেসি বা ম্যারাডোনা, কোনোটা সম্রাট, কোনোটা সুলতান। এবার যেমন একটি গরুর নাম রাখা হয়েছিল নারিরুদ্দিন পাটোয়ারি। আরেকটি গরুর নাম ছিল কালাপাঠা।

একটি ছোট্ট সাদা সুন্দর গরুর নাম দেখেছিলাম পরীমনি। তবে চেহারায় বা চরিত্রে মিল থাকতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। এটি এক ধরনের নির্দোষ আনন্দ। সেই মোতাবেক মাথায় চুল থাকায় খামারি জিয়াউদ্দিন মৃধা মহিষের মাথার চুলগুলো আঁচড়ে দেন। অমনি মহিষের চেহারায় একটি ট্রাম্প-ট্রাম্প ভাব চলে এলো। তিনি নাম রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর যাবে কোথায়, সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে মহিষটির চেহারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ঠেকল। প্রথমে দেশের গণমাধ্যমে, তারপর ভারতের এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত বড় বড় পত্রিকায় ফলাও করে রিপোর্ট হলো। বাদ গেল না দি গার্ডিয়ান, রয়টার্স, স্কাই নিউজ, বিবিসির মতো ভারী ভারী গণমাধ্যমও। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিষ ট্রাম্প আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি দিয়ে সয়লাব। মজার কমেন্টে ভরে উঠেছে।

দেশের সরকার বিব্রত হলো। আর যাই হোক, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষকে তো আর কোরবানি দেওয়া যায় না। কথায় বলে, নামে নামে যমে টানে। এক্ষেত্রে যমে না টেনে বরং ট্রাম্পের নামের কারণে বেঁচে গেছে মহিষটি কোরবানির হাত থেকে। যে পাগলা প্রেসিডেন্ট, বলা তো যায় না, নিমিটজ টাইপের যুদ্ধজাহাজ একটা পাঠালেই তো আমাদের কর্ম সারা। আমরা তো আর ইরান না যে ট্রাম্পের রোষের মুখে টিকে থাকব। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একটু বাণিজ্যে ট্যারিফ বাড়ালেই মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। তাই সরকার সঠিক কাজটাই করেছে। নাম আর চুলের কারণে মহিষ ট্রাম্প শুধু বেঁচেই যায়নি, বরং এখন সরকারের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা চিড়িয়াখানায় রাজকীয় হালে আছে। যেভাবে খাবারদাবার এবং যত্ন-আত্তি দিয়ে রাখা হয়েছে তা একটি মহিষের জন্য হোয়াইট হাউসের মর্যাদারই। ভাগ্য ভালো, মহিষ কোনো ডিশ খায় না, কুইজিন বা ওয়াইন খায় না, এমনকি দেশি পোলাও-মাংসও খায় না। খেলে অবশ্যই তা সরকারের তরফ থেকে সার্ভ করা হতো। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! এখন এই মহিষ যদি অসুস্থ হয়, নিশ্চিত সংবাদ প্রকাশ হবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অসুস্থ! আজ হোক আর দশ বছর পর হোক, যখন এই মহিষটি মারা যাবে তখনও নিউজ হবে, চলে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়াও মাঝে মাঝেই সংবাদ প্রকাশ হবে, চিড়িয়াখানায় কেমন আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প! বাঙালি পারেও ভাই!

কিন্তু সরকারের জন্য বিব্রতকর অবস্থার অবসান হয়নি। এই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যাচ্ছে মিরপুর চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানা সরব হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা বের হয়ে এসে বলছে, আসলেই সে দেখতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো! এখন সরকার যদি এটির নাম এফিডেভিট করে পাল্টেও দেয়, তাতেও কোনো কাজ হবে না। দেশ তেহরানের মতো বা গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও মানুষ দৌড়াবে আর বলবে, ওই মিরপুরের ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যই এই দশা!

তবে চেহারা-ছবিতে মিল থাকলেও স্বভাবে কিন্তু দুই ট্রাম্প একেবারে আলাদা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সারাক্ষণ বকবক করেন। সকালে এক কথা বলেন, দুপুরে আরেক কথা তো রাতে আরেক কথা। তার কথা নিয়ে বিশ্ববাসী ভীষণ অসুবিধায় আছে। কিন্তু চিড়িয়াখানার ট্রাম্প সহজাত কারণেই একেবারে চুপচাপ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি এটাই নতুন নয়। ২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর পাকিস্তানের জিও নিউজে প্রথম একটি সংবাদ প্রকাশ হয় যাতে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে। তার নাম ছিল দাউদ ইব্রাহিম। প্রমাণস্বরূপ একটি ব্লন্ড চুলের ছোট্ট বালকের ছবিও ছাপা হয়। বলা হয়, তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তাকে দত্তক নেন ফ্রেড ট্রাম্প এবং আনে ট্রাম্প। তখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। আসলে সেটি ছিল সম্পূর্ণ গুজব।

হোয়াইট হাউসকে চিড়িয়াখানা বলাটায় যে কোনো ভদ্রলোক রাগ করবেন না। কারণ এই হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এখন নিয়মিত কোথায় কোথায় আক্রমণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরান যুদ্ধ চলমান রেখেই এখন কিউবায় হস্তক্ষেপের জোর পায়তারা চলছে। ইতিমধ্যে তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলাকে একরকম নিজেদের প্রদেশ বানিয়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী যা করছে তা আধুনিক সভ্য সমাজে অস্বাভাবিক, যা পূর্বে কখনোই দেখা যায়নি। চিড়িয়াখানা বলা তাই অস্বাভাবিক মনে হয়নি।

তবে ক্ষোভের সঙ্গে কিছুটা রসিকতার সুরে একজন সচেতন মানুষ বললেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আসলে একটি চিড়িয়াখানায় আছেন। অর্থাৎ হোয়াইট হাউসকে তিনি চিড়িয়াখানা বানিয়ে ফেলেছেন। অত্যন্ত উগ্র, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ একদল কেবিনেট সদস্য নিয়ে তিনি পই পই করে যুদ্ধের ময়দান খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব ওয়ার পিট হেগসেথ ৩০ মে সিঙ্গাপুরে সাংগ্রিলা ডায়ালগে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পরিষ্কার চীনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক। চীনের বিরুদ্ধে এশিয়ার দেশগুলোকে সোচ্চার হতে বলেছেন, অস্ত্রের বাজেট বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন। অথচ তার বস ১৫ দিন আগে চীনে এসে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আলোচনা করে গেছেন। ভিন্ন প্রসঙ্গে না যাই।

হোয়াইট হাউসকে চিড়িয়াখানা বলাটায় যে কোনো ভদ্রলোক রাগ করবেন না। কারণ এই হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এখন নিয়মিত কোথায় কোথায় আক্রমণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরান যুদ্ধ চলমান রেখেই এখন কিউবায় হস্তক্ষেপের জোর পায়তারা চলছে। ইতিমধ্যে তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলাকে একরকম নিজেদের প্রদেশ বানিয়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী যা করছে তা আধুনিক সভ্য সমাজে অস্বাভাবিক, যা পূর্বে কখনোই দেখা যায়নি। চিড়িয়াখানা বলা তাই অস্বাভাবিক মনে হয়নি।

লেখক: সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক।

এইচআর/জেআইএম