Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

‘মাটি হয়ে গেছে ঈদ’

হামের প্রাদুর্ভাবে সবার চোখ রাজধানীর শিশু হাসপাতালের দিকে। ঈদের ছুটিতে কেমন চলছে চিকিৎসা? হামে রোগী বাড়ছে না কমছে? ছুটিতে থাকলেও সবার কৌতূহল এ নিয়ে।...
Homeকিউআর কোড স্ক্যান করলেই হ্যাক হতে পারে ফোন, বাঁচবেন যেভাবে

কিউআর কোড স্ক্যান করলেই হ্যাক হতে পারে ফোন, বাঁচবেন যেভাবে

ডিজিটাল যুগে কিউআর কোড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দোকানে পেমেন্ট করা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর মেনু দেখা, ইভেন্টে প্রবেশ কিংবা বিভিন্ন অনলাইন সেবায় দ্রুত প্রবেশ সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে আছে নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকি। অসতর্কভাবে কিউআর কোড স্ক্যান করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রতারণা?

সাইবার অপরাধীরা এখন কিউআর কোডকে ব্যবহার করছে ফিশিং আক্রমণের নতুন হাতিয়ার হিসেবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একে কুইশিং (কিউআর ফিশিং) নামে অভিহিত করেন। এই পদ্ধতিতে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করার পর ব্যবহারকারীকে এমন একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়, যা দেখতে একেবারে আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মতো।

অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তিনি একটি প্রতারণামূলক সাইটে প্রবেশ করেছেন। সেখানে লগইন তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, কার্ড নম্বর কিংবা ওটিপি চাওয়া হলে অসতর্ক ব্যবহারকারীরা তা দিয়ে দেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিপদ।

কোথায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি?

প্রতারকরা সাধারণত এমন জায়গাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, যেখানে মানুষ দ্রুত কাজ সারতে চান। যেমন-

  • দোকানের পেমেন্ট বোর্ড
  • পার্কিং মিটার
  • রেস্তোরাঁর টেবিলে থাকা কিউআর কোড
  • পাবলিক পোস্টার বা বিজ্ঞাপন
  • কুরিয়ার পার্সেল বা প্রচারণামূলক লিফলেট

অনেক ক্ষেত্রে আসল কিউআর কোডের ওপর ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না।

কিউআর কোড স্ক্যান করার আগে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউআর কোড স্ক্যান করার পর তাড়াহুড়ো করে লিঙ্কে প্রবেশ করা উচিত নয়। বরং কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে লিঙ্কটি যাচাই করা জরুরি।

নিরাপদ থাকার জন্য একটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন: স্ক্যান করুন → লিঙ্ক দেখুন → যাচাই করুন → তারপর খুলুন।

যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

১. ওয়েব ঠিকানা পরীক্ষা করুন

কিউআর কোড স্ক্যান করার পর যে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখাবে, সেটি পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য কি না নিশ্চিত করুন। নামের বানানে সামান্য পরিবর্তন বা অতিরিক্ত অক্ষর থাকলেও সেটি প্রতারণার লক্ষণ হতে পারে।

২. সংক্ষিপ্ত লিঙ্ক থেকে সতর্ক থাকুন

অনেক প্রতারক শর্ট ইউআরএল ব্যবহার করে প্রকৃত গন্তব্য লুকিয়ে রাখে। অচেনা বা সন্দেহজনক লিঙ্ক দেখলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে থেমে যান

স্ক্যান করার পর যদি সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড, ওটিপি, ব্যাংক তথ্য বা কার্ড নম্বর দিতে বলা হয়, তাহলে কোনো তথ্য না দিয়ে পেজটি বন্ধ করে দিন।

৪. স্টিকারযুক্ত কিউআর কোডে সন্দেহ করুন

যদি দেখেন কোনো কিউআর কোডের ওপর নতুন করে আরেকটি স্টিকার লাগানো হয়েছে বা সেটি অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করাই ভালো

বর্তমানের অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ডিভাইসগুলোর নিজস্ব ক্যামেরা অ্যাপেই কিউআর কোড স্ক্যানের সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অজানা বা তৃতীয় পক্ষের কিউআর স্ক্যানার অ্যাপ ব্যবহার না করতে। কারণ এসব অ্যাপ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

ই-মেল বা মেসেজে পাওয়া কিউআর কোডেও সতর্কতা

অচেনা প্রেরকের ইমেল, এসএমএস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় কিউআর কোড পেলে তা স্ক্যান করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। অনেক প্রতারণামূলক প্রচারণা এখন কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

কেএসকে