বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো র্যাম এবং স্টোরেজ চিপের সরবরাহ সংকট। তাদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে আগামী কয়েক বছর, এমনকি ২০৩০ সাল পর্যন্তও স্মার্টফোনের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে গুগলের একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ‘টার্বো কোয়ান্টাম’ নামে একটি বিশেষ অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যার লক্ষ্য ডিভাইসের র্যাম ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দাবি, নতুন এই অ্যালগরিদম র্যামের ক্যাশ ম্যানেজমেন্টকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। এটি প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে অপ্রয়োজনীয় ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণ করতে সক্ষম। এর ফলে ডিভাইসের মেমোরি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র্যামের কার্যক্ষমতা কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্মার্টফোন পরিচালনার সময় মেমোরির ওপর চাপও অনেক কমে যাবে। ফলে তুলনামূলক কম হার্ডওয়্যার ব্যবহার করেও উন্নত পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার অনেক স্মার্টফোনেই মাত্র ৪ জিবি র্যাম এবং সীমিত স্টোরেজ দেওয়া হচ্ছে। যদি নতুন প্রযুক্তিটি প্রত্যাশামতো সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কম দামের ফোনেও উন্নত র্যাম ব্যবস্থাপনা এবং বেশি স্টোরেজ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের আশা, সফটওয়্যারভিত্তিক এই ধরনের উদ্ভাবন হার্ডওয়্যার নির্ভরতা কিছুটা কমাবে। আর সেটি বাস্তবায়িত হলে স্মার্টফোন নির্মাতারা তুলনামূলক কম খরচে আরও শক্তিশালী ডিভাইস বাজারে আনতে সক্ষম হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে উঠতে পারে।
কেএসকে

