টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা জিরো অলিম্পিয়াডের ফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন এক গৌরবের নজির স্থাপন করেছেন মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন রিফাত।
সংস্থাটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া ৯ হাজার ৩৩২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ৫১ জনের একজন হিসেবে ফাইনাল রাউন্ডে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
ফেনী জেলার গোহাড়ুয়া গ্রামের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা আফছার উদ্দিনের ছেলে রিফাত বর্তমানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

আয়োজকদের প্রকাশিত ‘এসডিজি অ্যাসিভার রেজাল্ট’ এর তালিকায় এসডিজি-১১ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রিফাতের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই নয়, মিশরে অধ্যয়নরত সমগ্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজকেও গর্বিত করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিফাত বলেন, ৯ হাজার ৩৩২ জন স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর সঙ্গে শুরু হয়েছিল আমার এই যাত্রা। প্রথম রাউন্ড অতিক্রম করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম ৩ হাজার ৪০৭ জন। এরপর দীর্ঘ পরিশ্রম, সৃজনশীল চিন্তা, নেতৃত্বের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রমাণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে ফাইনাল রাউন্ডে নির্বাচিত হয়েছি মাত্র ৫১ জন।
তিনি জানান, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অশেষ রহমতে এসডিজি-১১ ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এই সাফল্যকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং শেখা, চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
রিফাত আরও বলেন, এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি ধাপ ছিল নতুন কিছু শেখার, নতুনভাবে ভাবার এবং নিজের সামর্থ্যকে আরও গভীরভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ। এই অর্জনের পেছনে আমার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযাত্রীদের অবদান অপরিসীম।

তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তার এই সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও নিরন্তর উৎসাহই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, জিরো অলিম্পিয়াডে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। একাধিক ধাপের কঠিন প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ফাইনাল রাউন্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সেই বিবেচনায় রিফাতের এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এমন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।
এদিকে, রিফাতের এই কৃতিত্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে সহপাঠী, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, ফাইনাল রাউন্ডেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার গর্বিত করবেন।
এমআরএম

