অনেকেই আছেন বাইরে থেকে ঘরে এসেই এসি চালান। কিছুক্ষণ পর আবার এসি বন্ধ করে দেন। আবার গরম লাগলে চালু করেন। বিদ্যুৎ বিল কমানোর আশায় অনেকেই কাজটি নিয়মিত করেন। তাদের ধারণা, এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই তাই?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এসি অন-অফ করা সবসময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতেও পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ধারণা কতটুকু কার্যকরী-
কেন বাড়তে পারে বিদ্যুৎ খরচ?
একটি এসির সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় চালু হওয়ার সময়। এসি চালু হলে এর কম্প্রেসর শুরু করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যাকে ‘স্টার্টআপ সার্জ’ বলা হয়। আপনি যদি ঘন ঘন এসি বন্ধ করে আবার চালু করেন, তাহলে বারবার এই অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয় বরং বেশি খরচ হতে পারে।
এছাড়া এসি যখন দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে চলে, তখন এটি সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজ করতে পারে। কিন্তু বারবার চালু-বন্ধ করলে সেটিকে বারবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়, যা সামগ্রিক দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
তাহলে কি এসি সারাক্ষণ চালু রাখা ভালো?
আসলে তা নয়। যদি আপনি মাত্র ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার জন্য অন্য ঘরে যান বা বাইরে বের হন, তাহলে এসি বন্ধ করার চেয়ে নির্ধারিত তাপমাত্রায় চালু রাখা অনেক সময় বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে কয়েক ঘণ্টা বা তার বেশি সময়ের জন্য বাসার বাইরে থাকলে এসি বন্ধ করে রাখা বা তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ খরচ কমে।
এবার বিদ্যুৎ বিল কমানোর কিছু উপায় জেনে নিন-
তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন।
ইনভার্টার এসি ব্যবহার করুন।
‘এনার্জি সেভার’ বা ‘ইকো মোড’ চালু রাখুন।
দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট বা টাইমার ব্যবহার করুন।
কেএসকে

