হবিগঞ্জে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১ জুন) সকালে সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত নদী দাস (১৬) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর গ্রামের অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর সে বানিয়াচংয়ের মশাকলি গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচংয়ের সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সম্প্রতি ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর রোববার সকালে পরিবারের অগোচরে নদীকে আবারও বাড়ি থেকে নিয়ে যায় দিলিপ। রাতে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের পাশে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহতের দাদু নারায়ণ দাসের দাবি, উদ্ধারের সময় নদীর নাক-মুখ রক্তাক্ত ছিল।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি ধর্ষণ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সব দিক বিবেচনা করে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হবে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেএইচকে/জেআইএম

