ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকেই এখন নিয়মিত হেয়ার কালার ব্যবহার করছেন। কারো চুলে লাল, কারো নীল, আবার কেউ সোনালি বা রুপালি রঙে নিজেকে সাজিয়ে তুলছেন। চুল পাকেনি তবুও স্টাইলের জন্য পার্লারে গিয়ে রং করানো এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই সুন্দর রঙের আড়ালেই চুলের স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই লক্ষ্য করছেন, রং করার পর চুল আগের মতো মসৃণ নেই; বরং রুক্ষ, খড়খড়ে এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে দায়ী মূলত হেয়ার ডাইয়ের ভেতরের রাসায়নিক উপাদান।

হেয়ার কালারে যেসব উপদান থাকে
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, বেশিরভাগ হেয়ার কালারে হাইড্রোজেন পারক্সাইড, অ্যামোনিয়া এবং প্যারা-ফেনিলিনডায়ামিন (পিপিডি) থাকে। এই রাসায়নিকগুলো চুলের বাইরের স্তর কিউটিকল খুলে দেয়, যাতে রং সহজে চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
কিন্তু একবার কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আগের মতো আর পুরোপুরি ফিরে আসে না। ফলে চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ধীরে ধীরে শুকনো ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষতি কীভাবে হয়?
অ্যামোনিয়া এবং পিপিডি শুধু চুল নয়, স্ক্যাল্পেরও ক্ষতি করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চুলকানি, জ্বালাভাব এবং অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে মাথার ত্বকে র্যাশও হতে পারে। রিসোরসিনল নামক আরেকটি উপাদান চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে চুল রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে যায়। এমনকি এই রাসায়নিকগুলো দীর্ঘ সময় শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ব্লিচিং বেশি ক্ষতিকর
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ রঙের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে ব্লিচিং প্রক্রিয়া। এটি চুলের প্রাকৃতিক রঞ্জক মেলানিন এবং লিপিড সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। ফলে চুল খুব দ্রুত ভেঙে যায় এবং চিরস্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কেমিক্যাল হেয়ার ডাই ব্যবহারে কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও এটি সরাসরি ঘটে না, তবে নিয়মিত এক্সপোজার ঝুঁকি বাড়ায় বলে ধারণা করা হয়।

যেভাবে সতর্ক থাকবেন
- রং করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন
- সম্ভব হলে অ্যামোনিয়া ও পিপিডি ফ্রি হেয়ার কালার ব্যবহার করুন
- ঘন ঘন চুলে রং করা এড়িয়ে চলুন
- প্রতিবার রং করার পর চুলকে পর্যাপ্ত সময় দিন পুনরুদ্ধারের জন্য
চুলের যত্নে করণীয়
চুলের ক্ষতি কমাতে নিয়মিত প্রোটিনযুক্ত হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। কেরাটিন বা সেরামাইড সমৃদ্ধ মাস্ক চুলের কিউটিকল মেরামত করতে সাহায্য করে এবং চুলকে আবার শক্ত ও মসৃণ করে তোলে।
ফ্যাশন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শরীর ও চুলের স্বাস্থ্য। যত দামি ব্র্যান্ডের হেয়ার কালারই হোক না কেন, অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সচেতনতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেয়ার ডেস, ভোগ
এসএকেওয়াই

