ঈদুল আজহার ছুটিতে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম কমে যাওয়ায় সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এতে আগের তুলনায় লোডশেডিংও কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন জেলার গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে দিনের পিক আওয়ারে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬ হাজার ৫৭৪ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৯৬৮ মেগাওয়াটে। ঈদের দিন ২৮ মে দিনের পিকে উৎপাদন হয় ৭ হাজার ৮১৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পিকে ১২ হাজার ৩৬৪ মেগাওয়াট। এছাড়া ২৯ মে সকাল ৯টায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৩৪৭ মেগাওয়াট।
মাঠপর্যায়ের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে যেখানে ঘন ঘন লোডশেডিং ছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ঈদের আগে দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। এখন অনেক কমেছে। দিনে এক-দুইবার কারেন্ট গেলেও ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই চলে আসে।
পাবনার ঈশ্বরদীর দীঘা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া ইয়াসমিন জানান, ছুটি শুরুর আগে দিনে পাঁচ থেকে ছয় বার লোডশেডিং হতো। এতে গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে গত ২৬ মে থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যে কারেন্ট কম যাচ্ছে। এখন আগের মতো ভোগান্তি নেই।
অন্যদিকে মাগুরার বাসিন্দা সৌখিন মোল্লা বলেন, দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে আবার চলে আসে। লোডশেডিং থাকলেও এখন তেমন সমস্যা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে চাপ কমেছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে ছুটি শেষে শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু হলে আবারও চাহিদা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এনএস/এমএমএআর

