পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সৃষ্ট কোরবানির বর্জ্য অপসারণে জোরালো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির দাবি, ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় ৩০ ঘণ্টায় সাড়ে ১৯ হাজার টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
দু’দিন প্রায় ২০ হাজার টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করলেও পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথমদিন রাত ৯টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিল ডিএসসিসি। তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালেও সিটি করপোরেশনটির বিভিন্ন এলাকায় কোরবানি বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অবশ্য শুক্রবার সকাল থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম গতি পায়। এতে দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে এখনো কিছু কিছু জায়গায় কোরবানির ছাট (চর্বি, পর্দা, রগ ও ছোট টুকরো) এবং রক্তমাখা পানি রয়েছে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৪১ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্ত ডাম্পিং করা হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য চূড়ান্ত ডাম্পিং করা হয়েছে।
এর মধ্যে ঈদের পরের দিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার ৪ হাজার ৮২৭ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যাডফিল্ডে চূড়ান্ত ডাম্পিং করা হয়েছে। রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়েছে।
এদিকে দুপুরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকা থেকে আজ ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় কোরবানির পশু এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য দ্রুত অপসারণে নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উপহার দিতে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
আবদুস সালাম বলেন, ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
এমএএস/এমএএইচ/

